Showing posts with label ছোটগল্প. Show all posts
Showing posts with label ছোটগল্প. Show all posts

Saturday, 13 April 2019

the lonely songs of laren dorr


                                                                                                                  


the lonely songs of laren dorr - george r r martin




মেয়েটা একজগত থেকে অন্য জগতে আসা যাওয়া করে ।

ধূসর চোখ আর মলিন ত্বকের অধিকারিনী সে, অন্তত তাই শোনা যায় । আর তার চুল কুচকুচে কালো কয়লার ঝরণাধারার মত , অস্পষ্ট লাল রঙের আভাস দেয়া যায় এখানে সেখানে । মেয়েটা একটা চকচকে কালো রঙের মুকুট পড়ে থাকে । মুকুটটা তার অবাধ্য চুলগুলোকে একটু শাসন করে ধরে রাখে । মাঝেমধ্যে সে চোখের নিচে হালকা শ্যাডো ব্যবহার করে ।

মেয়েটার নাম শাররা এবং সে  ‘দরজা ’ গুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখে ।

তার গল্পের শুরুটা আমাদের জানা নেই , যেটা থেকে আমরা জানতে পারতাম সে কোথায় জন্ম নিয়েছিল । কি ? গল্পের শেষটুকু জানি কিনা ? নাহ, গল্পের শেষ হয়নি এখনো । অবশ্য গল্পের শেষ হলেও আমরা জানতে পারব না ।

আমরা শুধু গল্পের মধ্যকার অংশ ; সঠিকভাবে বলতে গেলে সুবিশাল গাঁথাটির অতিক্ষুদ্র একটুকরো সম্পর্কে জানি । অতিবৃহৎ গাঁথাটির একটি ছোট গল্প—যা কিনা আমাদের জানিয়ে দেয় শাররার জগত আর নিঃসঙ্গ গায়ক ল্যারেন ডর সম্পর্কে , এবং সেই সেই সময়টার কথা , যখন তারা একে অপরের সাথে পরিচিত হয়েছিল ।


* * * * * *
বিশাল মাঠটাই  একমুহুর্তের জন্য গোধূলির আলোটা ধরতে পেরেছিল । পড়ন্ত সূর্যটা শৈলশিরায় এসে যেন থেমে গেল । সূর্যের রশ্মিগুলো তীর্যকভাবে গভীর বনের গাছগুলোর কালো চকচকে গাছের ডাল আর বর্ণহীন গাছের পাতার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল  । পুরো বনে কেবল মোর্নি ঘুঘু , যারা কিনা রাতে বেরোয় ; আর বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝরণার স্রোতের শব্দ শোনা যাচ্ছিল ।   

হঠাৎ করে অজানা এক ‘দরজা’ দিয়ে শাররা ক্লান্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় লারেন ডর এর জগতে প্রবেশ করল । সে একটা সাধারন সাদা রঙের ড্রেস পড়েছিল , যাতে রক্তের দাগ ও ঘামের কারনে দাগ পড়ে গিয়েছে । তার পিঠের পুরু ফারের তৈরি আলখেল্লাটা কে জানি অর্ধেক টেনে ছিড়ে ফেলেছে । আর তার বাম হাত এর কেটে যাওয়া অংশ থেকে তখনো রক্ত ঝরছিল । কাঁপতে কাঁপতে সে ঝরনার পাশে গিয়ে দাড়ালো, আশেপাশে কেউ আছে কিনা তা যাচাই করে নিল সন্দেহের চোখে , এরপর ঝপ করে বসে পড়ল তার রক্তাক্ত হাতটার তদারকি করতে । ঝরনার পানিটা দ্রুত প্রবাহিত হলেও রঙ ছিল কালো বা গাড় সবুজের কোনো মিশ্রনের মত । সেটা ব্যবহারের যোগ্য কিনা তা যাচাই করার কোনো সুযোগ নেই । তবে শাররা ক্লান্ত আর তৃষ্ণার্ত থাকায় সেটা নিয়ে আর ভাবছে না । সে সেখান থেকে এক আঁজলা পানি মুখে দিলো , রক্তাক্ত হাতটা যতটুকু পরিষ্কার করা সম্ভব ততটুকু করল । এরপর গায়ের কাপড় ছিঁড়ে সে হাতটা ব্যান্ডেজ করল । সূর্য যখন ডুবতে শুরু করল, সে আস্তে আস্তে ঝরনা থেকে সরে গিয়ে একটা বনের গাছগুলোর নিচের অপেক্ষাকৃত ভাল জায়গায়  গিয়ে শুয়ে পড়ল । চোখে তখন ক্লান্তিতে ঘুম ভর করেছে ।

হঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে গেলে সে লক্ষ্য করলো, কেউ তাকে খুব সহজেই আলগিয়ে কোলে তুলে নিয়েছে । এরপর কোথাও যাওয়া শুরু করতেই সে নড়েচড়ে উঠল । কিন্তু হাতগুলো যেন আরো শক্ত হয়ে এঁটে বসে তাকে ধরে রাখল । “ শান্ত হও ।  ” মোলায়েম স্বরে কেউ বলে উঠল । আবছা আলোর মধ্যে সে একটা পুরুষের চেহারা দেখতে পেল । চেহারাটা ছিল লম্বাটে আর ভদ্র বলেই মনে হচ্ছিল তাকে দেখে । “ তুমি এখন খুবই দুর্বল। ” সে বলল । “রাত নামছে শীঘ্রই । আমাদের কোথাও আশ্রয় নেয়াটাই ভাল হবে । ”
শাররা আর তাকে বাঁধা দিল না , অথচ তার বাঁধা দেয়াটাই যৌক্তিক ছিল । অনেক পরিশ্রমের পর সে এখন ক্লান্ত , শরীরে একফোঁটাও শক্তি নেই । পুরুষটার দিকে সে বিভ্রান্তির চোখে তাকালো , “ কেন ? ” উত্তর শোনার জন্য অপেক্ষা না করেই আবার প্রশ্ন করল, “ তুমি কে ? কোথায় যাচ্ছি আমরা ? ”
“ নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছি আমরা ।  ” সে উত্তর দিল ।
“ তোমার বাসা ? ” ঘুমের ঘোরে সে প্রশ্ন করল ।
“না ।  ” সে বলল । তার গলা এতটাই স্নিগ্ধ আর মোলায়েম ছিল যে, তার কথা শুনতে শাররার খানিকটা কষ্ট হচ্ছিল । “ না, বাসা নয়, কোনোভাবেই বাসাতে নয় । কিন্তু যেখানে যাচ্ছি, সেটাও খারাপ নয় ।  ”
এমন সময় শাররা ঝপাস ঝপাস শব্দ শুনতে পেল । বোধহয় আমরা কোনো ঝরণা পার হচ্ছি , সে ভাবল । কোলে থাকা অবস্থাতেই সে সামনে একটা বিশাল কুচকুচে কালো রঙের তিন টাওয়ার বিশিষ্ট দূর্গ দেখতে পেল । আশ্চর্য ত, সে ভাবল । এটা ত আগে সেখানে ছিলনা ।
আস্তে আস্তে সে ঘুমিয়ে পড়ল ।


                                                            *****************

ঘুম ভাঙ্গতেই সে দেখতে পেল, পুরুষটা তার দিকে তাকিয়ে আছে । সে একস্তুপ নরম, উষ্ণ চাদরের ওপর শুয়ে ছিল । বিছানাতে পর্দার ব্যবস্থা থাকলেও সেটা উপরে তুলে রাখা হয়েছিল । ঘরটির গৃহকর্তা তার বিছানা থেকে দূরে একটা বড়সড় চেয়ারে বসেছিল, রাতের অন্ধকারের আলো-ছায়ার মাঝে তার মুখটা ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। মোমবাতির টিমটিমে বাতি তার চোখে প্রতিফলিত হচ্ছিল, তার দুটো হাতের সংযোগস্থানের ওপর বেশ সুন্দরভাবেই থুঁতনিটা বিশ্রাম নিচ্ছিল । বিন্দুমাত্র না নড়েই সে জিজ্ঞেস করল, “ এখন কেমন বোধ করছ ? ”
সে উঠে বসতে গিয়ে লক্ষ্য করল, সে নগ্ন । সাথে সাথে চিন্তা করার আগেই তার হাতটা মাথার ওপর চলে গেল। তার কালো মুকুটটা আগের জায়গাতেই ছিল। কেউ সেটা উঠিয়ে নেয়নি , বহাল তবিয়তেই সেটা তার ঠান্ডা,ধাতব অংশ দিয়ে কপালে লেগে আছে । শান্ত হয়ে সে বালিশে হেলান দিল, নিজের লজ্জ্বা ঢাকার জন্য চাদরটা অনেকদূর টেনে নিল। “ অনেকটা ভাল বোধ করছি ।  ” সে উত্তর দিল । তার সকল ক্ষত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে, সে লক্ষ্য করল ।
লোকটা মৃদু হাসল, অনেকটা জ্ঞানীর মত,প্রচ্ছন্ন দুঃখে মেশানো ছিল সে হাসি । তার মুখটা ছিল সুগঠিত, কালো কুচকুচে কোঁকড়ানো চুল চোখ পর্যন্ত লম্বা আর চোখদুটো স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বড় ছিল। বসে থাকা সত্বেও বোঝা যাচ্ছিল, সে বেশ লম্বা। 










Portraits of his children-1



অক্টোবরের এক ভর সন্ধ্যায় , হাঁটতে বের হবার সময় রিচার্ড ক্যান্টলিং তার দরজার গায়ে ঠেস দিয়ে রাখা প্যাকেজটা দেখতে পেলেন । প্যাকেজটা ওভাবে দেখে তিনি বেশ বিরক্ত হলেন , কারন তিনি তাদের পোস্টম্যানকে বারবার বলে দিয়েছেন , বড়সড় কোনো প্যাকেজ দিতে হলে অন্তত তাদের কলিংবেল টা বাজিয়ে সেটা যেন দিয়ে যায় । সেটা না করে বরাবরের মতই সে শুধুমাত্র দরজায় ঠেস দিয়ে রেখে যাচ্ছে এমন খোলা জায়গায় , যে কেউ সেটা তুলে নিয়ে সটকে পড়তে পারে । তবে সত্যি বলতে কী, ক্যান্টলিং এর বাসা আশেপাশের বাসা থেকে বেশ দূরে ; একেবারে গলির শেষে নদীর পাশের উঁচুজায়গায় , তাও আবার আশেপাশের বিশাল গাছগুলোর কারনে বাড়িটা একেবারেই লোকচক্ষুর অন্তরালে। তা সত্বেও প্যাকেজটা আচমকা বরফ কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হতেই পারত !  


ক্যান্টলিং এর মনের বিরক্ত ভাব কিছুক্ষন পরেই উবে গেল । প্যাকেজটা ভারি বাদামী কাগজ দিয়ে মোড়ানো আর টেপ দিয়ে একেবারে আঁটসাট করে বাধা—দেখেই বোঝা যায় কি আছে ভেতরে । ভেতরে নিশ্চিতভাবেই একটা পেইন্টিং আছে ।আর সবুজ মার্কার দিয়ে গোটা গোটা অক্ষরে হাতে লেখা ঠিকানা – এটা নিশ্চিতভাবে মিশেল পাঠিয়েছে । তারমানে আরেকটা আত্মপ্রতিকৃতি । অনুশোচনাবোধ থেকেই পাঠিয়েছে এটা ।


সত্যি বলতে কী, ক্যান্টলিং খুবই অবাক হয়েছে , যদিও সেটা তার মুখে প্রকাশ পাচ্ছেনা । সে সবসময় একগুঁয়ে স্বভাবেরই ছিল , কারো প্রতি ক্ষোভ সে বছরের পর বছর , এমনকি যুগের পর যুগ ধরে রাখতে পারতো্‌ । নিজের ভুল স্বীকার করার প্রবণতা তার মধ্যে কখনোই ছিলনা । আর মিশেল, তার একমাত্র সন্তান হওয়ায় তার গুণগুলোই পেয়েছে ।তার থেকে এরকম উপহার...... ব্যাপারটা কেমন জানি মধুর !

ক্যান্টলিং তার হাঁটার লাঠিটা ঘরের ভেতর রেখে প্যাকেজটা মাটি থেকে তুলে নিলেন। বাইরের তীব্র আর্দ্র আর কনকনে ঠান্ডায় সেটা খোলা ঠিক হবেনা, মনে মনে ভাবলেন তিনি । প্যাকেজটা ৩ ফুট লম্বা , আর অস্বাভাবিকভাবে ভারি । জিনিসটা তিনি আনাড়িভাবে আলগিয়ে ধরে, পা দিয়ে দরজাটা বন্ধ করে সেটাকে তার স্টাডিরুমে নিয়ে গেলেন । রুমটাতে সব পর্দা নামানো, ধূলোয় ভরা আর কেমন যেন একটা গুমোট ভাব।




দু'মাস আগের সেই রাতের পর থেকে স্টাডিরুমটা ব্যবহারই করছেন না তিনি, যে রাতে মিশেল ঝড়ের বেগে হনহন করে বেরিয়ে গিয়েছিল । ম্যান্টলের ওপর তার আত্মপ্রতিকৃতিটা এখনো বসে আছে ৷ ম্যান্টলের ঠিক নিচের ফায়ারপ্লেসটাকে একটু ঝাড়ামোছা করা দরকার, বুকশেলফগুলোর উপন্যাসগুলো, দামী কালো চামড়ায় মোড়ানো বইগুলোতে এলেমেলো হয়ে আছে, একই সাথে ধুলোর একেবারে আস্তরন পড়ে গিয়েছে৷ ছবিটার দিকে তাকিয়ে ক্যান্টলিং এর মনে একঝটকা রাগ ফিরে এল, পরক্ষনেই বিষন্নতায় ডুবে গেলেন তিনি । কাজটা মিশেল ঠিক করেনি । ছবিটা আসলেই অনেক সুন্দর ছিল অনেক, তার এরকম ধরনের ছবিই পছন্দ ৷ কিন্তু মিশেল এসব বাদ দিয়ে কি সব জঘন্য বিমূর্ত ছবি আঁকত শখের বশে, আর গতানুগতিক পেপারব্যাক বইগুলোর প্রচ্ছদ আঁকত, যা মোটেই ক্যান্টলিং পছন্দ করত না ৷ আত্মপ্রতিকৃতিটা মিশেল এর বয়স যখন ২০, তখন সে ক্যান্টলিং কে তার জন্মদিনে উপহার হিসেবে দিয়েছিল ৷ ছবিটা এমনভাবে মিশেলকে উপস্থাপন করেছে, যা কোনো ফটোগ্রাফের পক্ষে করা সম্ভব নয় । শুধু মুখের রেখাগুলো, তার ধারালো মুখ, নীল চোখ, আর এলেমেলো হয়ে থাকা হালকা ছাইরঙ্গের স্বর্নকেশটাই শুধু ফুটিয়ে তোলেনি , বরং ভেতরের লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিত্বটাও ফুটে উঠেছে ওতে । তাকে খুব কমবয়েসী,ঝকঝকে চেহারার আর দ্বিধাহীন দেখাচ্ছিল । হাসিটা দেখে তার হেলেনের কথা মনে পড়ে গেল , হেলেনও ঠিক এভাবে হেসেছিলো তাদের বিয়ের দিনে । মিশেলকে সে একাধিকবার বলেছিলো, তার হাসিটা খুব ভাল লাগে তার ।


আর সেজন্যই চলে যাবার আগে সেই ছবিটার ওপরেই আক্রমন করে গিয়েছে সে , সবার আগে সেই হাসিটা কে কাটাকুটি করে রেখে গিয়েছে ক্যান্টলিং এর সংগ্রহে থাকা একটা এন্টিক ছুরি দিয়ে , পরে ছবিটার মধ্যে থাকা মুখটা চারটি কোপে একেবারে দফারফা করে দিয়েছে । এরপরে চোখগুলো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তুলে ফেলেছে , যেন আত্মপ্রতিকৃতিটাকে অন্ধ করা ছিল তার উদ্দেশ্য । যতক্ষনে তিনি তাকে থামাতে এলেন , ততক্ষনে সে ক্যানভাসটা কেটে ফালিফালি করছিল । সেই মুহুর্তটা ক্যান্টলিং কখনোই ভুলবেন না । এত কুৎসিত লাগছিল তখন ছবিটাকে দেখতে । আর নিজের কষ্টে আঁকা কোনো ছবিকে যে এভাবে ধ্বংস করতে পারে কেউ, সেটা তার কল্পনাতেই ছিলনা । তিনি নিজেকে কল্পনা করলেন , তিনি তার প্রিয় উপন্যাসগুলোর একটা এভাবে নষ্ট করছেন , বোঝার চেষ্টা করলেন মানসিকভাবে কিরকম আঘাত পেলে মানুষ এরকম আচরন করত্তে পারে, কিন্তু সেটা বুঝতে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ ছিলেন । এরকম ঘটনা যে ঘটানো সম্ভব, সেটা তার কল্পনার বাইরে ছিল ।

এতকিছুর পরেও বিকৃত সেই ছবিটা সেখানেই ঝুলছিল । রাগ করে সেটা আর নামাননি , কিন্তু সেটার দিকে তাকাতেও সাহস হয়না তার । তাই স্টাডিতেই আসা ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি । পুরোনো বাড়িটা , যেটাতে তিনি থাকতেন ছিল বিশাল আকারের, আর তিনি একলা থাকায় তার প্রয়োজনের চেয়েও বেশি রুম খালি পড়ে ছিল । এক শতাব্দী আগে, যখন পেররো শহর কেবল একটা নদীনির্ভর ছোট্ট একটা শহর ছিল , তখন বাড়িটি বানানো হয়েছিল । বাড়িটার গথিক নির্মানকৌশলের মধ্যেই পুরোনো সেই সোনালি দিনগুলো ফুটে ওঠে । তার জানালা দিয়ে আর রেলিং ঘেরা ছাদ থেকে মিসিসিপি নদী বেশ স্পষ্টভাবেই উপভোগ করা যায় । সেই ঘটনার পর থেকে ক্যান্টলিং তার ডেস্ক আর টাইপ রাইটার অন্য একটা অব্যবহৃত ঘরে সরিয়ে রেখেছেন , যাতে স্টাডিরুম টা ব্যবহার না করতে হয় । সেদিন মিশেল যেভাবে রেখে গিয়েছিল ঘরটা, তার এক বিন্দু পরিবর্তন করেননি তিনি । আর যতদিন না মিশেল এসে ক্ষমা চাবে তার কাছে, ততদিন তাই রাখার ইচ্ছে তার ।


এত তাড়াতাড়ি যে ক্ষমা প্রার্থনা চলে আসবে, ভাবতেও পারেননি তিনি , তাও আবার এভাবে । হ্যাঁ, একটা কান্নাভেজা ফোনকল তিনি আশা করছিলেন , কিন্তু আরেকটা আত্মপ্রতিকৃতি তার কাছে আশাতীত ছিল । তারপরেও এটাতেই তার বেশি ভাললাগছে, বেশি আপন মনে হচ্ছে ।





আরো যা দেখতে পারেন